অনলাইন ডেক্স // বরগুনার বেতাগীতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যানারে নাম না রাখাকে কেন্দ্র করে বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান কবির ও তাঁর ছেলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শোয়েব কবিরের সঙ্গে বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির ও তাঁর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণ শেষে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। হামলার পর থেকে বেতাগী পৌর শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আহতরা হলেন- বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মল্লিক, বেতাগী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জামাল খান এবং বেতাগী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. শোয়েব কবির।
এর মধ্যে জামাল খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মল্লিক।
পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান কবিরের ছেলে ও বেতাগী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. শোয়েব কবির অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হন। শোয়েব কবির অনুষ্ঠানের ব্যানারে তাঁর বাবার নাম দেখতে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হন এবং উত্তেজিত হয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে গালমন্দ করতে থাকেন।
ব্যানারে নাম না থাকার খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহজাহান কবির তাঁর লোকজন নিয়ে কলেজে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করতে থাকেন। এ সময় শাহজাহান কবির ঘুষি দিয়ে হুমায়ুন কবির মল্লিকের নাকে আঘাত করেন। এ খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে তাঁর নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। তাঁদের দুই পক্ষের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে নেয়।
আহত বেতাগী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল খান বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শোয়েব কবির তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করেছে।’ এ বিষয়ে বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহিন বলেন, কলেজের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে শাহজাহান কবিরকে দাওয়াত কার্ড দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে তাঁর বর্তমান কোনো দলীয় পদ না থাকায় ব্যানারে নাম রাখা হয়নি। এ কারণে তিনি ও তাঁর ছেলে শোয়েব কবির লোকজন নিয়ে কলেজে হামলা ও ভাঙচুর চালান। বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মল্লিক বলেন, ‘বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানের ব্যানারে নাম না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির ও তাঁর ছেলে শোয়েব লোকজন নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেন।
হামলায় আমিসহ আমার দলের কয়েক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হই। হামলার বিষয়টি দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছি।’ বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কবির বলেন, ‘আমার বড় ছেলে বেতাগী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শোয়েব বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যায়।
এ সময় বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। সেখানে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারামারি আরম্ভ হয়। আমার ছেলের মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর পোলাপান আবার পাল্টা পিটাপিটি করেছে।
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ব্যানারে নাম দেওয়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাহজাহান কবিরের ছেলের সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের মধ্যে কথা-কাটাকাটা ও ধাক্কাধাক্কি হয়।
এরপর শোয়েব ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। বর্তমানে পৌর শহরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।